প্রোগ্রামিং ভাষা শেখার সবচেয়ে ভাল উপায়

বাংলাদেশে প্রোগ্রামিং ব্যাপারটিকে এমনভাবে পরিচিত করা হয়েছে যেন এটি একটি প্রতিযোগিতার ব্যাপার। সন্দেহ নেই প্রোগ্রামিং পরিচিত করানোর জন্য সেটি একটি ভাল উপায়। তবে সমস্যা হল যারা শিখতে চায় তাদের কাছে প্রোগ্রামিং নিয়ে যে বার্তাটি গিয়েছে সেটি আমি ভুল বলে মনে করি।

প্রোগ্রামিং কিভাবে শিখব সে প্রশ্নের উত্তর বোঝার আগে যেটি বোঝা দরকার সেটি হল, প্রোগ্রামিং কেন শিখব? প্রথমে সেটি দেখা যাক। প্রোগ্রামিং হল কম্পিউটারের দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে গণিত করার ক্ষমতা ব্যবহার করে আমাদের কোন সমস্যাকে সমাধান করা। প্রশ্ন হচ্ছে সমস্যাটি কি গাণিতিক হতে হবে? অবশ্যই না। কম্পিউটার কি শুধু আমরা গাণিতিক সমস্যার সমাধান করতে ব্যবহার করি? নিশ্চয়ই না। ১০ বছর আগে হলে এই প্রশ্নের উত্তর হ্যা হতে পারত। কিন্তু আজকে ২০১৯ সালে এসে আমরা আমাদের দৈনন্দিন অনেক কাজেই কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকি। তাই আমাদের চারপাশের যেকোন কাজ, যেটি করতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয় সেটি দ্রুত করতে প্রোগ্রামিং ব্যবহার করতে পারি।

উদাহরণ হিসেবে আমারই একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারি। সম্প্রতি একটি জার্নালে পেপার জমা দেবার পর ১০-১৫ মিনিট পরপরই আমি কোন আপডেট আছে কিনা যাচাই করতে থাকতাম। এটা একটা সময়ে আমার অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেল। এতে করে প্রতিদিন আমার সময় এবং মনোযোগ দুটোই নষ্ট হচ্ছিল। তো আমি যেটা করলাম যে একটি স্ক্রিপ্ট লিখলাম পাইথনে যেটি ২০ মিনিট পরে পরে আমার হয়ে যাচাই করবে নতুন কোন আপডেট আছে কি না আর নতুন কোন আপডেট থাকলে আপডেটটি আমাকে ইমেইল করে দেবে। স্ক্রিপ্টটি লেখার কারণে আমার যেসব লাভ হল সেটি হচ্ছে আমি আনেক সময় বাঁচালাম যেটি আমি অন্য কাজে করচ করতে পারলাম। আর প্রোগ্রামটি দিন হোক বা রাত, নিয়ম করে প্রতি ২০ মিনিটে আমার হয়ে যাচাই করছে যেটি আমার বারবার একটি ওয়েবসাইটে গিয়ে ক্লিক করার চাইতে অনেক দক্ষ (efficient)।

এত কথা বলার শেষ কথা হচ্ছে, প্রোগ্রামিংকে আমরা এভাবেই কোন একটা সমস্যার সমাধানের জন্য ব্যবহার করতে পারি। সেটা যেকোন সমস্যা হতে পারে। এখন আসা যাক আসল প্রশ্নের উত্তরে, কিভাবে শিখব। বলতে গেলে যেকোন প্রোগ্রামিং বিষয়ক বইয়ের শুরুটা হয় তার সিনট্যাক্স (syntax) দিয়ে। সমস্যা হচ্ছে, একেবারে নতুন কারো জন্যে সেগুলো মনে রাখা অনেক কঠিন। আর গুগলের যুগে সেটি গুরুত্বপূর্ণও নয়। যেকোন প্রোগ্রামিং ভাষার যেকোন সিনট্যাক্স দুই মিনিট খরচে করে গুগলে সার্চ দিলেই পাওয়া যায়। বই পড়ে সিনট্যাক্স রপ্ত করতে গিয়ে আমার প্রোগ্রামিং শিখতে দীর্ঘদিন লেগেছে। এ কারণে আমি মনে করি প্রোগ্রামিং শেখার সবচাইতে সোজা উপায় হচ্ছে মজার এবং কাজে লাগবে এমন কোন সমস্যা বের করে সেটি একটি প্রোগ্রামিং ভাষা দিয়ে সমাধান করা। নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে যে, প্রতিদিনের করা কোন কাজটা আমি একটা প্রোগ্রামিং ভাষা ব্যবহার করে কম সময়ে দক্ষতার সাথে করতে পারি? এমন একটা সমস্যা বের করে সেটিকে একটি ভাষা দিয়ে কোড করে ফেলা।

এই কৌশলের আরো একটা ভাল দিক আছে। ইন্টারনেট ঘাটলে দেখা যাবে প্রোগ্রামিং ভাষার কোন অভাব নেই। তাই নতুন কেউ যে প্রোগ্রামিং শিখতে চাচ্ছে তার জন্য একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় কোন ভাষা শিখবে সেটা ঠিক করা। এ কারণে যখন মাথায় একটি সমস্যা থাকে যেটি সমাধান করতে চাই, তখন সে সমস্যার জন্য মানানসই একটি ভাষা পছন্দ করাও সোজা হয়ে যায়। মোট কথা হচ্ছে, এমন একটি ভাষা পছন্দ করা যেটি দিয়ে আমি সবচাইতে কম সময়ে আমার সমস্যাটা সমাধান করতে পারব।

এই কৌশলের একটা সমস্যা হচ্ছে শোনামাত্র কম্পিউটা সায়েন্টিস্টরা তেড়ে আসবে, এ কী রে বাপু? ডাটা স্ট্রাকচার (data structure) আর এলগরিদম (algorithm) না শিখলে প্রোগ্রামিং করা যায় নাকি? হ্যা যায়। জীববিজ্ঞান থেকে শুরু করে সামাজিক বিজ্ঞান সব বিষয়ের গবেষণায় প্রোগ্রামিং ব্যবহার হচ্ছে। এসব প্রোগ্রামারের বড় অংশই ডাটা স্ট্রাকচার কিংবা এলগরিদম কোনটাই শেখে নি। তারপরেও তারা প্রোগ্রামিং ব্যবহার করে তাদের সম্পর্কিত সমস্যাগুলো ভালভাবেই সমাধান করতে পারছে।

এখানে এটাও বোঝা গুরুত্বপূর্ণ যে, প্রোগ্রামিং করতে করতে একটা পর্যায়ে গিয়ে ডাটা স্ট্রাকচার এবং এলগরিদম দুটোই লাগে। একটি কোডকে দীর্ঘস্থায়ী করতে এ দুটোর কোন বিকল্প নেই। তবে প্রোগ্রামিং শুরু করতে হলে এগুলো অত্যাবশ্যক নয়। এই আমরা যেমন ব্যাকরণ না শিখেই বাংলা বলা আর লেখা দুটোই শিখে গিয়েছি, এমন।

You May Also Like

About the Author: রতন কুমার রায়

আমি ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে একজন পেশাদার ব্লগার । আমার জ্ঞান অনুযায়ী, আমি অন্যদের ফ্রিল্যান্সার সাহায্য করার চেষ্টা করি । আমি ২017 সাল থেকে ব্লগিং শুরু করেছি । আমি অ্যাফিলিয়েট বিপণন, সিপিএ বিপণন, এসইও, ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলপমেন্ট এবং ওয়েব ডিজাইনও করি। আমি বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং বাজারে কাজ করি ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *