ঘরে বসেই নিজে নিজে প্রোগ্রামিং শিখুন

প্রথম ইন্টারনেট জগতে প্রবেশ করেই আমার জানতে ইচ্ছা করে এসব ওয়েবসাইট আসলে কি, এবং কিভাবে তৈরি হয়। ঐসময় আমি কতোটা অজ্ঞ ছিলাম তা প্রমাণ করতে আমার তৎকালীন দুটি ধারণার কথা বলি- আমি ভাবতাম সার্চ-ইঞ্জিন নিশ্চয়ই গাড়ির ইঞ্জিনের মতো কোন ফিজিক্যাল জিনিস এবং আমরা টাকা দিয়ে যে ডাটা কিনি সেই টাকা থেকেই ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষের আয় হয়।

যাই হোক, কিভাবে ওয়েবসাইট তৈরি করতে হয় তা নিয়ে নানাভাবে ‘রিসার্চ‘ করার পর আমি HTML এর সাথে পরিচিত হই। ঐসময় ওয়াপকা নামের একটি ফ্রি সাব-ডোমেইন সার্ভিস খুবই জনপ্রিয় ছিলো এবং তার সাথে .TK/.CF/.ML/.GA ইত্যাদি ফ্রি TLD সমূহও খুব কমন ছিলো। আপনারা যারা অনেক দিন ইন্টারনেটে আছেন তারা নিশ্চয়ই কোনোনা কোন ওয়াপকা সাইটে ভিজিট করে থাকবেন।

ওইসময় আপনার ওয়েবসাইট কতোটা সুন্দর তা নির্ভর করতো আপনার সাইটে গেলে উপর থেকে তুষারপাত হয় কি না বা প্রত্যেক পোস্টে রঙচঙা অ্যানিমেটেড আইকন দেখায় কিনা ইত্যাদি অদ্ভুতুড়ে জিনিশের উপর। এইসব অদ্ভুত জিনেস ইমপ্লিমেন্ট করতে প্রয়োজন হতো জাভাস্ক্রিপ্ট এর, হাজার হাজার টিউটোরিয়াল সাইটে কেউ না কেউ ঐসব কোড আগেই লিখে রেখেছিলো, তাই আমার মতো বেশিরভাগ জনতা খালি কপি-পাস্তায়(!) আসক্ত ছিলো। কপি পেস্ট করে অনেক কাজ অটোমেটিক হয়ে গেলেও কিছু জিনিস মনমতো ছিলোনা, আর এই ছোটখাটো বিষয়াদি টুইক করতে গিয়েই প্রোগ্রামিং এর অ-আ-ক-খ বুঝতে পারি।

একটা কথা বলতে ভুলে গেছি, আমি কিন্তু তখনও জানতামনা কম্পিউটার কিভাবে চালু করতে হয়, ব্যবহার করাতো দূরের কথা। সবকিছু ৩০০০ টাকা দামের একটা জাভা ফোনেই শিখেছিলাম।

এভাবে ওয়াপকা নিয়েই পড়েছিলাম প্রায় পুরো হাইস্কুল। এরপর আসে অ্যান্ড্রয়েড রেভ্যুলুশান এবং সেই সুবাদে আমার নতুন জিনিস শেখার গতিও বেড়ে যায় অনেক। কিছুদিনের মধ্যে PC কেনা হয়ে যায় আর সাথে সাথে আমার আকর্ষন সরে যায় অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লকেশনের দিকে।

অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট শিখতে গিয়েই সর্বপ্রথম আমি ফর্মাল ভাবে প্রোগ্রামিং ভাষা (জাভা) ’র সাথে পরিচিত হই। ভেরিয়েবল ডিক্লেয়ার করা, লুপ, কন্ডিশন, ফাংশন তৈরি… এতটুকু পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই ছিলো। কিন্তু অবজেক্ট-ওরিয়েন্টেড অংশে গিয়েই আমার চারদিকে অন্ধকার নেমে আসে।

অনেকটা হাল ছেড়েই দিই বলতে পারেন।

কলেজে ICT তে ওয়েব ডিজাইন এবং C প্রোগ্রামিং (যেহেতু OOP নয়) আমার কাছে পানিভাত ছিলো, ICT ক্লাসে আমার কাজ ছিলো খালি টিচারের ভুল ধরা… কলেজের শেষ দিকে আবার জাভা নিয়ে উঠে পড়ে লাগি, Udacity’র ফ্রি কোর্স দিয়েই আমার যাত্রা শুরু হয়। এরপর টরেন্ট থেকে Udemy’র পাইরেটেড কোর্স ডাউনলোড করে শিখতে থাকি।

ভার্সিটি এডমিশনের সময় হয়, অনেক নাটকীয়তা শেষে জগন্নাথে গণিতে চান্স পাই। আমার চিন্তা ছিলো যদি গণিতে ভর্তি হই তাহলে কপালে দুঃখ আছে, তাই চান্স পাওয়ার বিষয়টা একটু চেপে রাখার চেষ্টা করি (সফল হইনি যদিও)।

নিজে নিজে অনেক কিছু শেখায় আত্মবিশ্বাস অনেকখানি বেড়ে গিয়েছিলো, তাই কম খরচের প্রাইভেট ভার্সিটি খুঁজতে থাকি, বিশ্বাস ছিলো (এবং আছে) যে গ্যাপটা আমি নিজে নিজেই পূরণ করে নিতে পারবো

ভার্সিটিতে প্রথম বছর + দ্বিতীয় বছরের কিছু অংশ শুধু প্রোগ্রামিং, ডাটা স্ট্রাকচার নিয়েই কাটে, আমার এসব কোর্সে নতুন করে শেখার প্রায় কিছুই ছিলোনা। তাই বাড়তি সময়টা নতুন জিনিস শিখতে শিখতে পার করতে থাকি।

এখনো পর্যন্ত নিজের স্কিলসেটে C, Java, Kotlin, JavaScript অ্যাডভান্স লেভেল পর্যন্ত এবং Python দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করার মতো করে শিখেছি। প্রথম সময়টা ছিলো চ্যালেঞ্জিং, এসব আমাকে দিয়ে হবে কি হবেনা সেই দ্বন্দ্বেই অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। এখন এরকম একটা পর্যায়ে আছি যে, মোটামুটি যেকোনো ল্যাঙ্গুয়েজ এর যেকোনো ব্যবহার নিজ চেষ্টায় আয়ত্ত্ব করতে পারবো।

টাইম ট্রাভেল করে আমি যদি আমার beginner-self এর সাথে কথা বলতে পারতাম, তাহলে তাকে এই বলে সাহস দিতাম-

“চিন্তা করার কোন কারণ নেই। নিজের উপর বিশ্বাস রাখো, একবার কোনমতে শেখার সঠিক রাস্তাটিতে পা ফেলতে পারলেই বাকি পথটা একদম মসৃণ আর সহজ হয়ে যাবে। প্রোগ্রামিং শেখা আর তা ব্যবহার করে কিছু তৈরি করার মতো আনন্দ খুব কম জিনিসেই আছে”

You May Also Like

About the Author: রতন কুমার রায়

আমি ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে একজন পেশাদার ব্লগার । আমার জ্ঞান অনুযায়ী, আমি অন্যদের ফ্রিল্যান্সার সাহায্য করার চেষ্টা করি । আমি ২017 সাল থেকে ব্লগিং শুরু করেছি । আমি অ্যাফিলিয়েট বিপণন, সিপিএ বিপণন, এসইও, ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলপমেন্ট এবং ওয়েব ডিজাইনও করি। আমি বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং বাজারে কাজ করি ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *